স্টাফ রিপোর্টার:- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে গ্রামবাসীর খেলাধুলার জন্য মাঠ ও ভৌত অবকাঠামো নির্মানের করার ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ে বাবুপুর গ্রামবাসীর কয়েকজন নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বাবুপুর গ্রামে ভালো একটি মাঠ করার জন্য কি পরিমান জমি ও অবকাঠামোর প্রয়োজন, কত টাকা খরচ হবে তাদের কাছে জানতে চান। একশ’ ২০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ এবং অবকাঠামো নির্মানসহ সাড়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে প্রতিমন্ত্রীকে ধারণা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী পরে মাঠ নির্মাণ করার জন্য যা প্রয়োজন ক্রীড়া মন্ত্রনালয় থেকে সব ধরণের সহায়তার ঘোষনা দেন।
গত কয়েক বছরের চেষ্টায় বাবুপুর গ্রামের ধনী-গরিব সবাই মিলে চাঁদা উত্তোলন করে খেলার মাঠের জন্য ৫৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পুরণ হওয়াতে আনন্দে মেতেছিলেন গ্রামের সবাই। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বাদ্য বাজিয়ে জমি বুঝে নেন গ্রামবাসীরা। এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে ডেকে পাঠান। গ্রামবাসীর মধ্যে প্রবীণ তিন ব্যক্তি খোরশেদ আলম, আজহার শিকদার, মাইন শিকদার ও মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি প্রতিমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। এ সময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী।
খোরশেদ আলম বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছেন। আমরা চিন্তাই কিরিনি এবাবে প্রতিমন্ত্রী আমাদের সাহায্য করবেন। কিভাবে গ্রামাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে জমি ক্রয় করা হলো প্রতিমন্ত্রী সব শুনেছেন। তিনি আমাদের গ্রামবাসীর ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। মাঠের জন্য যা যা প্রয়োজন তিনি সব দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা ৬০ শতাংশ জমি মাঠের জন্য কিনেছি। পাশে আরও ৬০ শতাংশ কেনার লক্ষ্য নিয়েছিলাম। আজকে সরকারই আমাদের সব ব্যবস্থা করে দিবেন। গ্রামের এই মাঠে খেলাধুলা হবে, এতে আমাদের আনন্দে বুক ভরে উঠবে।
মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিকতা দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। একটি মাঠ করার জন্য ১৮০ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়। ৫৯ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। অপর ১২০ শতাংশ জমি ক্রয় এবং অবকাঠমো নির্মান করতে যা যা প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য ঘোষনা দেন।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রতিমন্ত্রী আমাদের ডেকে ছিলেন। জমি ক্রয় থেকে কি ধরণের সাপোর্ট প্রয়োজন তিনি জানতে চেয়েছেন। মাঠের এক্সপার্টদের নিয়েও তিনি বসেছেন। সে খানে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা বিষয় এখানে জড়িত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক। দ্রুত মাঠ নির্মানের প্রতিশ্রিুতি দিয়েছেন। গ্রামে এ ধরনের মাঠ তৈরী হলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি মাদকমুক্ত থেকে দূরে থাকবে।
উল্লেখ্য, গ্রামের কয়েকজন যুবক প্রবীণ বিত্তশালীরা একত্রিত হয়ে মাঠের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সাথে গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থসহায়তা চাওয়া হয়। গ্রামবাসী কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ কেউ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেন। পরে ৫৯ শতাংশ জমি কিনে নেওয়া হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম ধরা হয় ৫২ হাজার টাকা করে। তিনি ১ শতাংশ জমি দান করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গ্রামবাসী জমিটি বুঝে পান। এ সময় গ্রামবাসীরা বাদ্য বাজিয়ে ওই জমি বুঝে নেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিনব্যাপী চলে আনন্দ উৎসব। গ্রামের যুবকেরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের।









