স্টাফ রিপোর্টার:- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী ফাতিহা নামে এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন (র্যাবিক্স) পুশ (প্রয়োগ) করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির পরিবারকে চাপ দিচ্ছে।
জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার (১৩ মে) বেলা ১২টার দিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামে আক্রান্ত ওই শিশুকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। যদিও ভ্যাকসিনটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর পুশ (প্রয়োগ) করার নিয়ম। অজ্ঞাত কারণে তাকে দিয়ে পুশ না করিয়ে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে এনে ভ্যাকসিন পুশ (প্রয়োগ) করার নির্দেশনা দেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।
তিনি আরও জানান, হামের ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে মোহাম্মদ কাইয়ুম তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন। নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন (র্যাবিক্স) পুশ করায় শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফলতিকে দায়ি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, এটি অসতর্কতামূলক অনাকাঙ্খিত একটি ভুল। আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। তবে হামের টিকার বদলে এ ভ্যাকসিন (র্যাবিক্স) শিশুর কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও পরিবারের সদস্যদের তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম জানান, এক মাস বয়সী একটি শিশুকে ভুল করে অন্য টিকা পুশ করার ঘটনাটি তিনি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে একমাস বয়সে একটি শিশুকে ভুলবশত যে টিকা দেওয়া হয়েছে তাতে কোন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও শিশুটিকে তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি তিনি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।








