স্টাফ রিপোর্টার:-যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চরসলিমাবাদ গ্রাম গত ১৫ দিনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদরাসা ও হাটবাজার। সহায় সম্বল রক্ষায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা আসবাবপত্রসহ ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙ্গনরোধে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। যদি ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে পার্শ্ববর্তী চৌহালী উপজেলার মতো নাগরপুর উপজেলার গ্রামগুলো যমুনা নদীর কড়াল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাবে এমনটাই আশংকা করছেন এলাকার মানুষ।
এদিকে নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা এলাকার লোকজন গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙ্গনে রোধে স্থায়ী কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় তাদের বাড়িঘর ও আবাদি জমিসহ তারা সব কিছু হারাতে বসেছেন। এতে করে চরম আতংক বিরাজ করছে এলাকাবাসির মধ্যে। এরই মধ্যে এলাকার লোকজন ভাঙ্গন আতঙ্কে তাদের সহায় সম্বল নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীপাড়ের সহস্রাধিক পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়ার এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরোনো মসজিদটিও যমুনায় তলিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার তাঁদের ঘরবাড়ি সরাতে হয় এবং ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
নদীগর্ভে বসতভিটা হারানো রমজান আলী বলেন, মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ে তাঁর বসতবাড়ি ছিল। গোটা বসতবাড়ি এখন নদীর পেটে। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন তাঁরা। ভুক্তভোগি ছালাম মিয়া বলেন, তাঁর একটি মাত্র ছাপরাঘর ছিল। গাছপালাসহ সেই বসতঘরটিও যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। মতিন মিয়া বলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
খাসঘুণী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে প্রবল ভাঙ্গনে পাইকশা মাইঝাল, মাইঝাল ও খাষ ঘুনিপাড়া গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রায় দুইশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে তিনটি মৌজা। গত সরকারের সময় এখানে ভাঙ্গণ পরিদর্শনে এসেছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি। তারা ভাঙ্গণ রোধে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। গত কয়েকদিনে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, যমুনার তীরে প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম সলিমাবাদের এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরফান উদ্দিন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ভাঙনরোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা করার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তালিকা শেষে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা একসময় সিরাজগঞ্জের মধ্যে ছিল। ভাঙ্গন এলাকা এখন টাঙ্গাইল অংশে এসে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে ভাঙ্গণরোধে কাজ শুরু করেছে। আমরাও তাদের সাথে সহযোগিতা করছি।
টাঙ্গাইলের মগড়ায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার:- টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার...








