মির্জাপুর প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গলিতে চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। মাদকের সাথে জড়িত অনেক মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে মাদক কিনতে ও সেবন করতে আসে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এছাড়া পৌর এলাকায় ছিনতাই ও চুরি সহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবার উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের আনুমানিক ৩শ গজ পশ্চিমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানীর ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ৮জন ছিনতাইকারী গুলি ছুড়ে ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এছাড়া রবিবার রাতে পৌর শহরের কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে এ জে এস কোং এন্ড রেস্তোরায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল নগদ এক লাখ টাকা ও সিসি ক্যামেরার মনিটরসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর প্রেসক্লাবসহ শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৌর এলাকার বিভিন্ন গলিতে গলিতে বাড়তে থাকে মাদকসেবীদের আড্ডা। যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
পুলিশ রবিবার বিকেলে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কদমা গ্রাম থেকে ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও সাবেক ইউপি সদস্য গোড়াকী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (২৫) ও একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া (২০) ৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৫ দিনে অর্ধশত মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বলে মির্জাপুর থানা পুলিশ জানিয়েছেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সমাজে প্রতিবাদি লোকের সংখ্যা খুবই কম। কেউ ঝামেলাই পড়তে চাইনা। চোখের সামনে অনেক কিছুই দেখি। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদক সেবন করছে। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে। বিভিন্ন স্টাইলে চুলের কাটিং ও কালার করা। এদের অধিকাংশই স্থানীয় ছেলে। কোনো কিছু বললে ওরা বাসার জানালায় ও ঘরের চালে ইটপাটকেল ছোড়ে, গালাগালি করে। তাছাড়া রাস্তায় চলাফেরার সময় বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে থাকে।
পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী মধ্যপাড়ার তিনটি স্পট, পুষ্টকামুরী পালপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কুতুব বাজার, শ্রীহরিপাড়া, সাহা পাড়া, ঘোষপাড়া, পাহাড়পুর, বাইমহাটী পশ্চিমপাড়া, রেল স্টেশন, গাড়াইল, গাড়াইল বেদে পাড়া, পুষ্টকামুরী চড়পাড়া এলাকায় মাদকের ব্যবসা চলছে। এসব স্থানে মাদক বিক্রেতারা চুপচাপ বসে থাকে লোক আসলে শুধু হাতের মিলন ঘটে আর চলে যায়। পুলিশ প্রতিনিয়ত ধরছে তারপরও কমছে না। এরপর জামিনে এসে আবার একই ব্যবসা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার দুইজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, হরহামেশাই মাদক কেনাবেচা হতো। মির্জাপুর থানায় নতুন ওসির যোগদানের পর পুলিশ প্রতিদিন ধরপাকড় চালাচ্ছেন।
মির্জাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, মাদক এখন সামাজিক ব্যাধি। এটাকে নির্মূল করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক নির্মূলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করি। কারও কাছে মাদক পেলে কোনো ছাড় দেয়া হয় না। আমি যোগদানের পর প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত অর্ধশত মাদক সেবন, বিক্রেতা ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানীর ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে মির্জাপুর থানার চারটি টিম বিভিন্ন থানায় অভিযান পরিচালনা অব্যহত রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টাঙ্গাইলে অবৈধ ডিজেল তৈরির কারখানা : বর্জ্যে পরিবেশ হুমকির মূখে
আলোকিত বাংলা ডেস্ক : টাঙ্গাইলে ভেজাল ডিজেল তৈরি ও তা অবৈধভাবে বাজারজাত করণের অভিযোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা-মিলে-ডিজেল তৈরির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সাইনবোর্ড বিহীন বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনও অনুমোদন...







